মাগো তোমার জন্য
বস্তির ছেলেগুলো অস্ত্র ধরেছিল
মাগো তোমার জন্য
কৃষক-তাঁতী আর বাওয়ালীরা
স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনেছিল,
মাগো তোমার জন্য
কত ফুল কলিতেই ঝরেছিল
মাগো তোমার জন্য
শত ছাত্র আর আমজনতারা
মিছিলে রাজপথ রাঙিয়েছিল।।
মাগো তোমারই ছায়াতলে
কেন এত বিভেদ মানুষে মানুষে
মাগো তোমারই ছায়াতলে
সৃষ্টি আর অনাসৃষ্টি এখনো কেন চলে,
মাগো তোমারই ছায়াতলে
সুখ আর দুঃখ কেন রয়েছে দুইভাগে।
**** ****
তোমার জন্য লড়াকু সেই
তরুন যুবকটি আজ আর
স্বপ্ন দেখে না;
স্বপ্নের বাগানে ফুটন্ত ফুলগুলোয়
বাসা বেঁধেছে অজস্র কীট
অপূর্ন বাসনায় তবে কি রইবে আজীবন।।
বাংলাদেশ আমার আঁধারের র্শবরী পেরিয়ে
উঠা নতুন সবিতা
বাংলাদেশ আমার শিকারীর ফাঁদ ছিঁড়ে
বেরিয়ে আসা ভীরু পায়রা,
বাংলাদেশ আমার মায়ের আঁচলে
জরানো মায়া কানন
বাংলাদেশ আমার কুয়াশার চাদরে
জরানো জীর্ন জমিন,
বাংলাদেশ আমার কৃষকের কাঁচির ধারে
অর্জিত সোনালী ফসল।
বাংলাদেশ আমার কোকিলের সুরে
সুরোলিত সুরশ্রী
বাংলাদেশ আমার রক্ত গোলাপে রঞ্জিত
র্স্বগীয় ধরিত্রী
বাংলাদেশ আমার নকশীকাঁথায়
জরানো নানা রঙের স্বপ্ন।
বাংলাদেশ আমার সলিলীত স্রোতস্বতী
পদ্মা, মেঘনা আর যমুনা
বাংলাদেশ আমার প্রতিবাদ আর অধিকার
আদায়ের নিত্য শ্লোগান মিছিল,
বাংলাদেশ আমার অভিমান আর ভালোবাসায়
লেথা নিত্য নতুন গীতিকবিতা
বাংলাদেশ আমার স্বপ্ন আর অনাস্বপ্নে
বাঁধা নিত্য বাসনা,
বাংলাদেশ আমার পাওয়া না পাওয়ার জীবনে
বেঁচে থাকার অবিরাম প্রেরনা।।
দূরে ঐ কাশবন ছুয়ে ছুয়ে হৃদয় দোলায়
সবুজ ঘাসের পরে শিশির যেথা করে ঝিকিমিকি,
নদীর ঢেউয়ের তালে সুর যেথা করে খেলা
মায়া ভরা জোছনায় আবেগ ঝরে যখন আকাশ থেকে,
মন যে হারায় তখন
নিজেকে বাধি তখন
আমারই আপন ভূমে
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।।
পদ্মার নীল পানি আর ঐ নীল আকাশ
এক হয়ে যেখানে সৃষ্টি করেছে ভাটিয়ালী,
সরল গ্রাম আর সবুজ মাঠ
রূপের ঢালি আর আবেগী ছোয়া
উদাস করে মন বানায়ে ভবঘুরে।।
রাখালী বাঁশীর সুর আর ক্লান্ত দেহ
এক হয়ে যেখানে সৃষ্টি করেছে কোন গ্রাম্য সুর,
সোনালী আলো আর রূপালী আলো
রূপের ঢালি আর আবেগী ছোয়া
উদাস করে মন বানায়ে ভবঘুরে।।
স্মৃতিগুলো পোড়ায় আমায়
কেঁদে যায় এই মন নিরবতায়
তুমি তা শোননা জানি
ঘোর নিশায় ছেয়ে গেছে
মনের এই ছোট্ট ঘর
তুমি তা জানোনা জানি
অচেনা করলে তুমি চেনা এই আমায়
বেলকনির স্মৃতি ভুলেছে আজ তোমার আকাশ
তাহলে বল জানবে কি করে এই মনের খবর।।
ক্যাসিয়া ট্রিটা হারিয়েছে দৃষ্টিসীমা
তবুও কি তুমি চাও কখনো আনমনে
সেই পানে / জানি উত্তর দেবে না,
মনের গ্রহে আজ দন্দ তোমার
পারলে কি সুখী হতে ভুলে আমায়
জানি উত্তর দেবে না।।
সূ্র্যটা এখনো সেই পথে ঘোরে
বিকেলের ছায়াটাও তেমন
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এখনো পড়ে
শুধু হাসো না তুমি আগের মতন
অভিলাষের দেওয়ালে তোমার জমেছে শেওলা
জানি তবু ফিরে আসবে না।।
একটি একটি করে অনেকটা দিন গিয়েছে কেটে
একটু একটু করে অনেকটা বছর গিয়েছে চলে
বেড়েছে ব্যবধান তোমাতে আমাতে
মনের নয় সে দৃষ্টি সীমার ।।
আর কি হবে দেখা
আর কি হবে কথা…….
স্মৃতি সে নয়তো ভোলার
আছে যা শুধু বেদনার
আধারের পথে একা
তোমারই হাসির চোরাবালিতে
ডুবে যাই অনন্তকাল ।।
ঢাকা; ০৮
আজ অনেক দিন
সূর্য দেখিনা
এমন কি চাঁদ;
কি অমাবশ্যা কি পূণিমা
সবই এক।
আলো আসে আলো যায়
কালো আসে কালো যায়
কখন্ আসে সূর্যি মামা
কখন্ সে যায়
কখন্ আসে চাঁদের বুড়ী
কখন্ বা যায়।
আমি শুধু থাকি প্রতীক্ষায়
চোখ ছোট করে
কবে তাকাবো সূর্যের দিকে!
আমি শুধু থাকি প্রত্যাশায়
চোখ মেলে ধরে
কবে তকাবো চাঁদের পানে।।
জানিনা কি আছে সে গোলাকারে
যাঁরে দেখার লাগি মন এমন উচাটন
অধমের দেহ বন্দি ইট কাঠের ঘরে
আত্মাটা তবু ছটফট করে জ্বালে অনির্বান।